সাক্ষাতকারে ভিম্পেলকমের আনিয়া: টেলিকমে বাংলাদেশে দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে

এই লেখাটি 2877 বার পঠিত

BANGLALINK_Vimpelcom_HR-01টেলিকম নিউজ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলকমের গ্রুপ চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার (এইচআর) আনিয়া উইথদিহাগ বলেছেন, টেলিকম সেক্টরে বাংলাদেশে বিশাল দক্ষ, পরিশ্রমী, সৎ ও নিষ্ঠাবান মানবসম্পদ রয়েছে। যার কারণে মাত্র অল্প সময়ে বাংলাদেশ ১২ কোটির বেশি মোবাইল ফোন গ্রাহক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

তাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইলফোন অপারেটর বাংলালিংকের মাদার কোম্পানী ভিম্পেলকমের অন্যতম টার্গেট এই দক্ষ জনশক্তিকে আরও শক্তিশালী করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তাদের কোম্পানীগুলোতে কাজে লাগানো। এতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যেমন লাভবান হবে তেমনি ওই কর্মীরাও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানস্থ বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাতকারে আনিয়া উইথদিহাগ এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে বাংলালিংকের প্রধান মানবসম্পদ ও জনপ্রশাসন কর্মকর্তা রিভার রাথর উপস্থিত ছিলেন।

Banglalink_Muzib_Masud

বুধবার একদিনের সফরে আনিয়া বাংলাদেশে আসেন। সফরকালে তিনি বাংলালিংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ঢাকা ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৬টি দেশে ভিম্পেলকমের অপারেশন আছে।

নেদারল্যান্ডভিত্তিক এই কোম্পানীর ১৬টি দেশে মোট ২২ কোটি গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে ১০ কোটি গ্রাহকই ফোর্থ জেনারেশন (ফোরজি) নেটওয়ার্কের আওতায়। ৮০ শতাংশ গ্রাহকই থ্রিজি কিংবা ফোর জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। সবমিলিয়ে ৬৬ হাজার কর্মচারী রয়েছে ভিম্পেলকমের। বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইলফোন অপারেটর বাংলালিংকের বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক ভিম্পেলকম।

সাক্ষাতকারে আনিয়া বলেন, ভিম্পেলকমের অন্যতম আন্তর্জাতিক ফোকাস হল অন্যান্য দেশের মতো বাংলালিংকেও দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনশক্তি তৈরি করা। তিনি বলেন, বাংলালিংককে তারা কোনভাবেই কম গুরুত্ব কিংবা আলাদা করে দেখছেন না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অবস্থিত তাদের অন্যান্য বড় কোম্পানীগুলোর মতোই তারা বাংলালিংককে তৈরি করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তাদের টার্গেট বাংলালিংকের দক্ষ কর্মী বাহিনী যাতে এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে গিয়ে শীর্ষ পদগুলো দখল করতে পারে। সেখানে গিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারে। এজন্য বাংলালিংকের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সব ধরনের কর্মীর জন্য ভিম্পেলকম বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে দেশে বিদেশে বিশেষ ট্রেনিং, টেলিকমের উপর মিনি এমবিএ ডিগ্রী প্রদান, আন্তর্জাতিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশ নেয়া, বিদেশে পোস্টিং, আন্তর্জাতিক মানের বেতন প্রদানসহ নানা পদক্ষেপ।

Muzib_Masud

শুধু শীর্ষ পর্যায়ে নয়, তৃণমূল পর্যায়েও দক্ষ জনবল তৈরি করার প্রসঙ্গ টেনে আনিয়া বলেন, এতে নিচের লেভেলের কর্মীরা শীর্ষ পর্যায়ে গিয়ে ভালভাবে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।

বাংলালিংকের উদাহরণ টেনে আনিয়া বলেন, তাদের এই উদ্যোগের কারণে বর্তমানে বাংলালিংকের চীফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও), পরিচালক মার্কেটিং, পরিচালক সেলস, পরিচালক কাস্টমর সার্ভিসসহ কোম্পানীর অনেক শীর্ষ পদে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। আগে এসব পদে সাধারণত বিদেশীরা পোস্টিং পেতেন। তার বিশ্বাস খুব অল্প সময়েই বাংলাদেশের অসংখ্য দক্ষ কর্মী ভিম্পেলকমসহ বিশ্বের টেলিযোগাযোগ সেক্টরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

তবে আনিয়া বলেন, কোন কর্মী যাতে অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে না পড়েন সেজন্য ভিম্পেলকম সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তার মতে এতে শুধু তাদের প্রতিষ্ঠানই নয়, ওই কর্মীও লাভবান হবে। নারী কর্মীদের ক্ষমতায়নের বিষয়েও ভিম্পেলকম খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা চাচ্ছেন নারীরাও শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিক। এজন্য তারা নারী কর্মীদেরও সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে আনিয়া বলেন, সরকারিভাবে তারা এখন অনেক বেশি সহযোগিতা পাচ্ছেন। তবে তিনি বলেন, সরকার যদি দেশের ন্যাশনাল কারিকুলামের মধ্যে টেলিযোগাযোগ সেক্টরের উন্নয়নে প্রয়োজনী খাতগুলো সম্পৃক্ত করে তাহলে তাদের পক্ষে দক্ষ জনবল তৈরিতে আরও সুবিধা হবে।

তবে লেবার ‘ল’সহ বিভিন্ন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এতে তাদের কর্মপন্থা তৈরিতে সুবিধা হচ্ছে বলেও জানান। এজন্য আনিয়া বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানান।

BANGLALINK_Vimpelcom_HR-04

বাংলালিংকের দক্ষ জনবল তৈরি প্রসঙ্গে আনিয়া বলেন, ভিম্পেলকমের অন্যান্য কোম্পানীগুলোর মতো বাংলালিংকের কর্মীদের বিষয়েও তারা সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মূলত একারণে বাংলালিংক থেকে কোন কর্মী অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে না।

যারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই পারিবারিক কংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কারণে যাচ্ছেন। আনিয়া বলেন, কর্মীদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে বাংলালিংক এখন দেশে দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রতিষ্ঠান। অল্প সময়ে বাংলালিংক এখন তিন কোটি গ্রাহকের পরিবার। তিনি এজন্য বাংলালিংক ও বাংলালিংকের সকল কর্মীদের সাধুবাদ জানান। তাদেরকে নিয়ে গর্ববোধও করেন।

ভবিষ্যতে বাংলালিংকের জন্য কর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে আনিয়া বলেন, যখন যা প্রয়োজন বাংলালিংক তা করবে। তবে ভিম্পেলকম কমদামী অদক্ষ বেশি লোক নিয়োগের চেয়ে বেশি দামী ও দক্ষ কম জনবল নিয়োগের পক্ষে। এতে নিয়োগকৃত ওই কর্মী ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর সব ধরনের কাজই সহজে করতে পারবে।

আনিয়া ২০১১ সাল থেকে দক্ষতার সঙ্গে ভিম্পেলকমের গ্রুপ চীফ এইচআর হিসাবে কাজ করছেন। এর আগে ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি কাজাকিস্তান, রোমানিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেলিকম কোম্পানীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি গ্রুপ এক্সিকিউটিভ বোর্ডেরও সদস্য।

Telecom Bangla

ঢাকা অফিসঃ ১৬২ পশ্চিম ধানমন্ডি, ঢাকা ফোন :০১৯১১-৩১৬৯৮৮
ই-মেইল:moretaza@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস :৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, টেলিকম বাংলা.কম, ২০১৪-২০১৬